হরমোনই জাগায় রাতে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে! কারণ কী ও কীভাবে ‘ক্রেভিং’ কমাবেন
রাতে হঠাৎ মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে কেন হয়? এর পেছনে কোন হরমোন কাজ করে এবং কীভাবে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস বদলে এই ক্রেভিং নিয়ন্ত্রণ করবেন—জানুন সহজ ভাষায়।
🍬 হরমোনই জাগায় রাতে মিষ্টি খাওয়ার ইচ্ছে! তাকে সামলাবেন কী করে? বদলে ফেলুন কিছু অভ্যাস
দিনভর ঠিকঠাক খাওয়ার পরেও রাতে শুতে যাওয়ার আগে হঠাৎ মিষ্টি বা চকলেট খাওয়ার প্রবল ইচ্ছে—এটা কি শুধুই লোভ?
আসলে না। এর পেছনে কাজ করে আমাদের শরীরের কিছু গুরুত্বপূর্ণ হরমোন ও দৈনন্দিন অভ্যাস।
এই ব্লগে জানব—
- ✔ সমস্যার মূলে কী কী
- ✔ কোন হরমোন দায়ী
- ✔ কীভাবে রাতের ‘sweet craving’ কমাবেন
- ✔ স্বাস্থ্যকর বিকল্প কী হতে পারে
🔍 ১) সমস্যার মূলে কী কী?
🧠 ক) কর্টিসল (Cortisol) – স্ট্রেস হরমোন
দিনভর মানসিক চাপ থাকলে কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়। রাতে শরীর তখন দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে চিনি বা মিষ্টি চাইতে শুরু করে।
🍽️ খ) ইনসুলিনের ওঠানামা
দিনে অনিয়মিত খাওয়া বা অতিরিক্ত রিফাইন্ড কার্বোহাইড্রেট খেলে রাতে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ কমে যায়। তখন মিষ্টির প্রতি টান বাড়ে।
😴 গ) ঘুমের অভাব
ঘুম কম হলে—
গ্রেলিন (খিদে বাড়ায়) বেড়ে যায়
-
লেপটিন (পেট ভরার সংকেত দেয়) কমে যায়
ফলে রাতে অতিরিক্ত খাওয়ার ইচ্ছে জাগে।
🕰️ ঘ) দেরিতে রাতের খাবার বা খাবার স্কিপ করা
রাতের খাবার দেরিতে বা একেবারেই না খেলে শরীর দ্রুত এনার্জি চাইতে শুরু করে—আর সহজ এনার্জির উৎস হলো মিষ্টি।
🍫 ২) ‘ক্রেভিং’ কমানোর টোটকা (প্র্যাক্টিক্যাল টিপস)
✅ ১. রাতের খাবারে প্রোটিন রাখুন
ডাল, ডিম, মাছ, পনির বা দই রাখলে পেট ভরা থাকে, মিষ্টির ইচ্ছে কমে।
✅ ২. খাবারের সময় ঠিক করুন
প্রতিদিন একই সময়ে রাতের খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন। খুব দেরি করবেন না।
✅ ৩. মিষ্টির বদলে স্বাস্থ্যকর বিকল্প
মিষ্টি খেতে মন চাইলে—
১ টুকরো ডার্ক চকলেট
-
খেজুর বা কিশমিশ ১–২টি
-
দইয়ের সঙ্গে অল্প ফল
✅ ৪. ঘুমের রুটিন ঠিক করুন
রোজ অন্তত ৭–৮ ঘণ্টা ঘুমান। মোবাইল স্ক্রিন ঘুমের আগে কমান।
✅ ৫. জল পান করুন
অনেক সময় তেষ্টা আর খিদে গুলিয়ে যায়। মিষ্টি খাওয়ার আগে এক গ্লাস জল খান।
✅ ৬. মানসিক চাপ কমান
হালকা হাঁটা, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ধ্যান স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে।
🥗 ৩) কোন অভ্যাসগুলো বদলানো জরুরি?
অতিরিক্ত চিনি ও প্যাকেটজাত খাবার এড়ানো
-
সারাদিন না খেয়ে থাকা
-
গভীর রাতে স্ক্রল করতে করতে স্ন্যাক্স খাওয়া
-
ঘুমের সময় অনিয়ম
এই ছোট অভ্যাস বদলালেই শরীরের হরমোনাল ব্যালান্স ধীরে ধীরে ঠিক হয়।
⚠️ Disclaimer
ডিসক্লেমার:
এই লেখাটি শুধুমাত্র সাধারণ স্বাস্থ্য সচেতনতা ও তথ্যের উদ্দেশ্যে লেখা। এটি কোনো চিকিৎসা পরামর্শের বিকল্প নয়। কোনো শারীরিক সমস্যা বা দীর্ঘস্থায়ী অসুবিধা থাকলে অবশ্যই যোগ্য চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। লেখায় উল্লিখিত তথ্য ব্যক্তি ভেদে ভিন্ন হতে পারে।

Post a Comment